ঢাকা: ৫ দশমিক ৯ কিলোওয়াট পিক’র ডিজিটাল কাটার নিয়ে গার্মেন্টটেকে হাজির হয়েছে উইনটেক্স রিসোর্সেস। বাজারে প্রচলিত কাটারের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এটি।
ইতালিয়ান ব্র্যান্ড এফকে গ্রুপের এ কাটারটি বছরে ১২ মেট্রিকটন কম কার্বন ইমিশন করে। কাপড় কাটিংয়ের পাশাপাশি বিষাক্ত কার্বন কাট করতে জুড়ি মেলা ভার। দাম অন্যদের তুলনায় একটু বেশি হলেও সামগ্রিক মূল্যায়নে ব্যবসাবান্ধব বলে জানান উইনটেক্স’র সিইও ফারুক হোসেন সরকার।
বাজারের অন্যান্য কাটারের তুলনায় ৪০ শতাংশ বাড়তি উৎপাদনক্ষম এফকে কাটার। গত দুই বছর বাজার সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরের ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এফকে। অার অন্যান্য সব কোম্পানি মিলে ৪০ শতাংশ মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানান উইনটেক্স সিইও।

বাজারে প্রচলিত কাটারগুলোতে দৈনিক (১২ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ বিল(ইউনিট ১০ টাকা হারে) উঠবে প্রায় ৬ হাজার টাকা। সেখানে এফকে কাটারে বিদ্যুৎ বিল আসবে মাত্র সাড়ে সাতশ’ টাকার মতো। মাস ও বছর শেষে অঙ্কটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে- তা এক ক্লিকেই বের করতে পারবেন যে কেউ।
ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি অব বসুন্ধরা’র রাজদর্শনে উইনটেক্স’র স্টলে কথা হচ্ছিল ফারুক হোসেন সরকারের সঙ্গে। তখন উইনটেক্স’র স্টল ভিজিট করছিলেন এপিক গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার প্রকৌশলী সহিদুজ্জামান শিমুল।
তিনি বলেন, এফকে কাটার ব্যবহার করে আমরা খুবই খুশি। আমাদের আদমজী কারখানায় স্থাপন করেছি গত বছরের মে মাসে। এক মিনিটের জন্য বন্ধ রাখতে হয়নি উৎপাদন। এখন পর্যন্ত কোনো রকম যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দেয়নি। পরিবর্তন করতে হয়নি কোনো যন্ত্রপাতিও।

অন্যান্য কোম্পানির কাটিং মেশিন ৪৫-৫০ কিলোওয়াট পিক বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে। সেখানে এ কাটিং মেশিন মাত্র ৫.৯ কিলোওয়াট বিদ্যুতে চলতে পারে। এ কারণে আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল অনেক কম এসেছে বলেও জানান প্রকৌশলী সহিদুজ্জামান শিমুল।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কাটিং মেশিন সরিয়ে এফকে গ্রুপের কাটিং স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কাটিং মেশিনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী অটোমেটিং ফ্রেবিক্স স্প্যান্ডিং মেশিন এনেছে উইনটেক্স। গার্মেন্টে কাটিংয়ের জন্য যে কাপড় বিছাতে ২০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, সেই কাপড় কাটিং টেবিলে সেটিং করতে পারে মুহূর্তেই।
২০১৫ সালে বাজারে আসা এফকে গ্রুপের ফেব্রিক্স স্প্যান্ডিং মেশিনটিতে বিদ্যুৎ লাগে মাত্র ১ দশমিক ৮ কিলোওয়াট পিক। এর চেয়ে কম বিদ্যুৎভোগী মেশিন বাজারে নেই বলে দাবি করেন উইনটেক্স’র সহকারী ম্যানেজার (সেলস) আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এফকে ব্র্যান্ড গার্মেন্ট খাতে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এফকে কাটারে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়েছে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি সিমেন্স’র। রোবোটিক টেকনোলজিতে প্রস্তুতকৃত এ কাটারে রয়েছে রিমোর্টিক সিস্টেম। অনেক আগে পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে এফকে কাটার ।
উইনটেক্স কাটার মেশিনের পাশাপাশি এর সফটওয়ারের ডেভেলপের কাজও করছে বলে জানা গেছে। তারা মেশিন স্থাপন থেকে শুরু করে চালু করা এমনকি অপারেশনেও সার্বিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের পৃথক অফিস রয়েছে সার্ভিস দেওয়ার জন্য। বুকিং থেকে ২ মাসের মধ্যে মেশিন স্থাপন করে দেন তারা।
উইনটেক্স কাটিং সেকশনের যন্ত্রপাতির পাশাপাশি, ইতালির রোতনদি গ্রুপের ফিনিশিং ও ওয়াশিং সেকশনের যন্ত্রপাতি নিয়ে হাজির হয়েছে গার্মেন্টটেকে। মেলায় বুকিং দিলে থাকছে বিশেষ ছাড়।

উইনটেক্স এফকে গ্রুপের আমদানিকারক হিসেবে পথচলা শুরু করে। অল্পদিনেই উইনটেক্স রিসোর্সেস তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়। যার ফলে এফকে গ্রুপ তাদের এশিয়া অঞ্চলের ডিরেক্টর হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে উইনটেক্স সিইওকে।
গার্মেন্টটেক প্রসঙ্গে উইনটেক্স’র সিইও বলেন, আমি প্রথম এলাম আইসিসিবিতে। এখানে এসে পুরোপুরি মুগ্ধ। আমি ইউরোপের অনেক দেশে এরকম মেলায় অংশ নিয়েছি। তাদের সেই কনভেনশন সেন্টারের তুলনায় ক্ষেত্র বিশেষে এগিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছি আইসিসিবিকে।
ইউরোপের হলরুমগুলো এতো প্রশস্ত নয়। এছাড়া পার্কিং এলাকা ও তার পরিবেশ সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতো। অনেকে ফ্যামিলি নিয়ে আসছেন দেখতে। একসঙ্গে কাজও হচ্ছে, আবার ঘোরাও হচ্ছে।

রাজদর্শনের ভেতরেই তার কথার মিল পাওয়া যাচ্ছিল। আবার বাইরে বের হতেই চোখে পড়ে অনেক ফটো সেশনের। অনেকেই আইসিসিবি’র মনোরম পরিবেশ ফ্রেমে বেঁধে রাখছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৬
এসআই/ এএসআর