কিন্তু তাদের খোঁজ রাখার সময় নেই যেন কারো। শ্রমিকদের কান্না আর বাঁচার আকুতি মিল গেটে এলাকার বাতাস যেন ক্রমেই ভারি হয়ে উঠছে।

দাবি পূরণে শ্রমিকরা গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় পুনরায় তারা আন্দোলনে নামে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর অনশন স্থলে অবস্থান করেন শ্রমিকরা। অনশনে অংশ নিয়ে দু’দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনজন শ্রমিক।
টানা চারদিনের মতো আন্দোলন চললেও মেলেনি কোনো আশ্বাস। তাই হতাশ এখানকার শ্রমিকরা।
শ্রমিক সুরুজ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এই মিলে কাজ করে খাই। আজ কতদিন হলো না খেয়ে, অনাহারে অনশনে আছি। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কলেজে ভর্তি করিয়েছি। টাকার জন্য পরীক্ষা দেওয়াতে পারি নাই। এর চেয়ে কষ্ট, আর কী হতে পারে? দয়া করে, এই দেশের সরকারকে একটু বলেন, আমাদের দিকে তাকাতে। খুশির দিন আর আমাদের মধ্যে নাই। ঘরে চাল নেই। সন্তানদের শীতের কাপড় নেই। পরনের জুতা নাই।
অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে সুরুজ মিয়া আরও বলেন, সন্তানরা আমাকে বলে, দেখ বাবা, আমার সঙ্গের বন্ধুরা কত আনন্দ উল্লাস করে। তুমি আমাদের কাপড়ই দিতে পারো না। আমারে কিছু দাও। কিন্তু কোন উত্তর দিতে পারি না। দয়া করে এই খবরটা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তিনি যেন আমাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেয়- বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার চোখের জল আর আর্তনাদের কথাশুনে আমরন অনশন মঞ্চের সবাই কেঁদে ফেলেন।
অপর শ্রমিক নাসির বাংলানিউজকে বলেন, মেয়েটা স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে স্কুলে ভর্তি করতে হবে। পকেটে টাকা নাই। তাই মেয়ের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না।
এসময় সিবিএ, নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতাদেরসহ মিলের শত শত শ্রমিক অংশ নেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমৃত্যু ঘরে ফিরবেন না বলেও ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০১, ২০২০
এএটি