বরিশাল: ব্যস্ততম বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের প্রশস্তকরণ অংশে অসংখ্য বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের মধ্যে রেখেই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যার পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রবন এ মহাসড়কে আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলার অংশে দুইপাশে প্রশস্ত করণের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে অনেক এলাকায় মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের মধ্যে রেখেই কার্পেটিং করা হয়েছে।
মহাসড়কে চলাচলরত একাধিক যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলের সময় দ্রুতগতির যানবাহনগুলো ছোট যানবাহনকে রাস্তার পাশে চাপিয়ে দেয়। অনেক সময় ওভারটেকিংয়ের কারণে ছোট যানবাহনগুলো সড়কের পাশে চলে যায়। এক্ষেত্রে সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ যেমন জরুরি। তেমনি দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণও করা জরুরি। সড়কের মধ্যে খুঁটি রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় হতবাক চালকরা মহাসড়ক থেকে খুঁটি অপসারণের দাবি করেছেন।
বরিশাল সড়ক ও জনপদের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকা-বরিশালের জাতীয় এ মহাসড়কের দুইপাশে প্রায় ছয় ফুট সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি ওটিবিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে। বর্ধিত অংশে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার সত্যতা স্বীকার করে ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগ মহাসড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের জন্য বরিশাল পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। একই কার্যালয় থেকে চলতি মাসের গত ১৯ ফেব্রুয়ারি খুঁটি স্থানান্তরের জন্য দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল’র কাজের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল হোসেন বলেন, বিদ্যুতের খুঁটিগুলো স্থানান্তর না করার কারণে বাধ্য হয়েই আমরা প্রশস্তকরণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান।
এ ব্যাপারে গৌরনদী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহিন কবির বলেন, এখন পর্যন্ত খুঁটি স্থানান্তরের ফি পরিশোধ করেনি সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তাই খুঁটিগুলো স্থানান্তর করা হয়নি।
ফি পরিশোধ করা হলে খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
এমএস/এসআইএস