ঢাকা, বুধবার, ১২ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ মার্চ ২০২৫, ২৫ রমজান ১৪৪৬

জাতীয়

শিবালয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১৯ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০২৫
শিবালয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হৃদয় হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে স্কুলছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক।

কোর্টের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া আসার সময় বখাটে হৃদয় রাস্তা-ঘাটে ভিকটিমকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। এতে কোন সাড়া না পাওয়ায় ১৩ মার্চ রাতে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে টয়লেটে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা অভিযুক্ত হৃদয় ওই স্কুলছাত্রীর মুখমন্ডলে চেতনানাশক মেডিসিন মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ১৯ মার্চ তাকে নিয়ে হৃদয় বাড়ি আসে। পরে হৃদয়ের ভাই ওই স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।

ভিকটিমের বড় ভাই মামলার বাদী বলেন, আমার বোনের অবস্থা খারাপ হলে হৃদয় তাকে ফেরত দেওয়ার পর প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। পরে সেখান থেকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কয়েক দিন ভর্তি থাকার পর বোনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। বিষয়টি শিবালয় থানায় জানানো হলে তারা কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন এবং পরে কোর্টে মামলা করি।

ভিকটিমের মা বলেন, আমি আজ গরিব মানুষ বলে বিচার পেলাম না, আমার ছোট মেয়েটারে কি অবস্থা করছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে পাঁচ মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে সংসার। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে গেল। ঢাকা নিয়ে মেয়েকে চিকিৎসা করার মতো কোনো টাকাও নেই। আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।  

ভুক্তভোগী পক্ষের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের বিষয়ে ২৩ মার্চ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মিস পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে শিবালয় থানায় অভিযোগটি এফআইআর করার নির্দেশ দিলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে। এতে করে ভিকটিম ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয় এবং সেই সঙ্গে ভিকটিমের পক্ষে বিনা খরচে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ওই আইনজীবী।  

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের নিদের্শে এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমকে ধর্ষণের বিষয়টি শিকার করেছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০২৫
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।