মৌলভীবাজার: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বন থেকে সম্প্রতি মূল্যবান তিনটি আগর গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন পর এবার পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম ঘটলো।
ঘটনার সত্যতায় বন বিভাগের একজন বনকর্মীকে (বোটম্যান) লাউয়াছড়া থেকে সরানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি লাউয়াছড়া বনের প্রধান ফটকের কাছ থেকে কোটি টাকা মূল্যের একটি আগর গাছের মাথা কেটে নিয়ে যায় স্হানীয় চোরচক্র। প্রায় ১০ ফুট গোলাকার ও ১৫০ ফুট উচ্চতার এই আগর গাছটির মাথা করাত দিয়ে কেটে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা।
সরেজমিন লাউয়াছড়া বনের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, লাউয়াছড়া বনের প্রধান ফটকের সামনে থেকে একটি আগর গাছের মাথা কেটে নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগকর্মীদের দায়িত্বরত অবস্থায় লাউয়াছড়া প্রধান ফটকের সামনে থেকে কীভাবে করাত দিয়ে গাছের মাথা কেটে নিয়ে গেছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে আগর গাছটি আসলে চুরি হয়েছে? – নাকি গাছটি বিক্রি করা হয়েছে?
প্রধান ফটকের পর লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির মাঠের পাশ থেকে এবং লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমিটরি এলাকা থেকে আরও ২টি আগর গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব গাছ কাটা এবং বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে বন বিভাগের বনপ্রহরী ও স্থানীয় বন টহল দলের সদস্যদের (সিপিজি) সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাঁচ আগস্টের পর থেকে গাছচোর ও বন্যপ্রাণী শিকারি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, আগর গাছ দিয়ে মূল্যবান পারফিউম তৈরি করে তা বিদেশে বিক্রি করা হয়, যার কারণে বাজারে এই গাছের কদর অনেক বেশি সেজন্য গাছচোর চক্র আগর গাছ চুরি করছে।
শনিবার (২৯ মার্চ) এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষক বিভাগ, মৌলভীবাজার এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় লাউয়াছড়ায় কর্মরত আমাদের বনবিভাগের একজন স্টাফকে (বোটম্যান) খুব শিগগিরই অপসারণ করা হবে। আমরা সব সময়ই সংরক্ষিত বনের গাছ চুরি প্রতিরোধে তৎপর। এ বিষয়ে কোনো আপস নেই। আমি ওই সব চোরচক্রদের শনাক্ত করতে চাচ্ছি। এ বিষয়ে আমি গোপনে তদন্ত করে যাচ্ছি। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগর গাছ পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ এবং একপ্রকার মূল্যবান বৃক্ষ। পাহাড়ি মাটি ছাড়া এ গাছ জন্মে না। পাহাড়ি অঞ্চলের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই সুগন্ধি কালো আগর কাঠ সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিকভাবে সুগন্ধি উৎপাদন করা হয় এই আগর গাছ থেকে। আগর কাঠ মূলত সাদা, গাছের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর হলে এ সাদা কাঠের বিভিন্ন স্থানে এক প্রকার ছত্রাকের সংক্রমণের প্রভাবে প্রাকৃতিকভাবে কালো রঙ ধারণ করে। আর এ কালো রঙ ধারণ করা কাঠই সুগন্ধি আগর কাঠ।
বাংলাদেশ সময়: ১২৪০ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৫
বিবিবি/আরএ