নাটোরে জেলা প্রশাসকের পুরোনো ডাকবাংলোর নির্জন জঙ্গলের ভেতর থেকে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলমারা ব্যালট পেপার ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ যন্ত্রাংশের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
এর আগে শহরের তালাব পুকুর থেকে চারটি শটগানসহ ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো তালাব পুকুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে একজন প্রত্যক্ষদর্শী এসব ব্যালট পেপার দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। এছাড়া জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব ব্যালট পেপার ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ যন্ত্রাংশের বিষয়টি শনাক্ত করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পাশাপাশি কীভাবে, কারা, কী উদ্দেশ্যে এই স্থানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এসব নথিপত্র ফেলে রেখে গেছে তা অনুসন্ধানে নেমেছেন তারা।
অপরদিকে খবর পেয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজ মোহাম্মদ শাহজাহান, নাটোরের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন ও জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং অন্যান্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাদের উপস্থিতিতে মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ও পুঁতে রাখা ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়। বেশির ভাগ ব্যালট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের নির্দেশে উদ্ধার তৎপরতা বা আলামত সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে- ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে নৌকা, ঈগল, ট্রাক ও লাঙল প্রতীকে সিলমারা নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিল মারা ব্যালট পেপার ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ যন্ত্রাংশ। সেখানে একটি গর্ত লক্ষ্য করার পর পুঁতে রাখা ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে এনডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ব্যালট পেপারগুলো ট্রেজারিতে ছিল। এরপর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় স্থান সংকুলানের কারণে এগুলো পুরনো বাংলোতে রাখা হয়। সেখান থেকে কে বা কারা এই ব্যালটগুলো নষ্ট করেছে তা তাদের জানা নেই। তবে বাকি যে ব্যালটগুলো ছিল সেগুলো নির্বাচন কমিশনের যে টেন্ডার হয়েছে সেই টেন্ডারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসকের পুরোনো ডাকবাংলো সংলগ্ন তালাব পুকুর থেকে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে চারটি শর্টগান, ১টি দোনলা ও ১টি একটি একনলা বন্দুকসহ মোট ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে আজ শনিবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনী। ওই পুকুরে শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে শুকানো হচ্ছে। তবে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত কোনো অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান বাংলানিউজকে বলেন, তালাব পুকুর থেকে অস্ত্র উদ্ধার এবং ডিসি বাংলোর নির্জন জঙ্গল থেকে সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখছি। কারা কীভাবে আনলেন এবং তাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে, তা তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বলা যাবে না। তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়েছি। আশা করি খুব শিগগিরই এর জট খুলবে।
তিনি অস্ত্র প্রসঙ্গে বলেন, অস্ত্রগুলো কার, কীভাবে ব্যবহার হয়েছিল, তারা কখন কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৭ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৫
এসএএইচ/এসআরএস