ঢাকা: কারাগারগুলোতে সবসময়ই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় থাকে। তবু ঈদ উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা, সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার (২৯ মার্চ) ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির কারাগারের বন্দিরা কীভাবে ঈদ উদযাপন করবেন, সে বিষয়ে বাংলানিউজকে জানান।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ডিভিশনসহ সব বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ খাবারের তালিকায় রয়েছে—সকালে সেমাই, পায়েস, মুড়ি। দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, খাসির মাংস, সালাদ, কোল্ড ড্রিংকস, মিষ্টি, পান-সুপারি। রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ, আলুর দম।
অন্যান্য বন্দিদের মতো ডিভিশন বন্দিরাও ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের সঙ্গে দেখা ও ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ঈদের পরের দিন বাড়ির রান্না করা খাবার গ্রহণেরও সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫৭ জন, কাশিমপুরস্থ ৪টি কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬২ জনসহ ঢাকা বিভাগস্থ অন্যান্য কারাগার মিলে সর্বমোট ১২৫ জন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি আটক রয়েছেন।
ঈদের মধ্যে কারাগারের ভেতরে কারা বন্দিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় কারারক্ষী ব্যারাকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যার পর কারাগারের স্টাফদের সন্তানদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি ও গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদ উপলক্ষে কারাগারের ভেতরে ভলিবল খেলাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকল বন্দিদের (বিশেষ বন্দিসহ) জন্য ঈদের তিন দিনের মধ্যে একবার নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে সরকারি টেলিফোন থেকে পাঁচ মিনিট কথা বলার ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ বা ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিরা একজন অফিসারের সামনে কথা বলতে পারবেন।
বন্দিরা যে সমস্ত নম্বরে কথা বলতে চান সেই নির্ধারিত নম্বরগুলা ঢাকা বিভাগস্ত কারাগারগুলো থেকে সংগ্রহ করে বিভাগীয় দপ্তর, ঢাকা থেকে ইতোমধ্যে আইসিটি শাখায় পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ঢাকা বিভাগে মোট ১৭টি কারাগার। ঢাকা বিভাগের আওতাভুক্ত কারাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুরস্থ চারটি কেন্দ্রীয় কারাগার, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪২ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৫
এজেডএস/এমজেএফ