ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

ইউটার্ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, আশাবাদী ডিএনসিসি

শাওন সোলায়মান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩০ ঘণ্টা, এপ্রিল ৪, ২০২১
ইউটার্ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, আশাবাদী ডিএনসিসি ইউলুপ সরু হওয়ায় পিছু ছাড়ছে না যানজট, ছবি: জি এম মুজিবুর রহমান

ঢাকা: রাজধানীজুড়ে যানজট কমাতে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে উত্তরা আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে ১০টি ইউটার্ন চালু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।  

তবে এসব ইউটার্নের সুফলতা নিয়ে সাধারণ নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কিন্তু ইউটার্নের সফল কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদী সিটি কর্পোরেশন।
 
রোববার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ইউটার্ন পয়েন্টে গাড়িচালক এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। চালকেরা বলছেন, কোথাও কোথাও ইউটার্নের জন্য মূল সড়ক এতটাই সরু করা হয়েছে, যার জন্য ধীর হয়ে যাচ্ছে গাড়ির গতি। ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট।
 
বিশেষ করে অফিস আওয়ারে এবং অফিস আওয়ার শেষে তেজগাঁও ও মহাখালী ইউটার্নগুলোতে যানজট তীব্র হচ্ছে। নাবিস্কো ইউটার্নের কাছে একটি প্রাইভেটকারের চালক নাফিস ইমতিয়াজ বলেন, এখানে মূল সড়ক কত সংকীর্ণ দেখেন, এর জন্য জ্যাম লেগে থাকে। আগে যখন এ সড়কে ইউটার্ন ছিল না, তখন এ সড়কে জ্যামই হতো না। শুধু বিজয় স্মরণী ফ্লাইওভারের গোড়ায় একটা সিগন্যালে জ্যাম হতো। এখন ইউটার্নেই জ্যামে পড়ে থাকতে হয়। বিজি প্রেসের সামনে যান, সেখানেও ইউটার্নের কারণে রাস্তা এত সরু হয়েছে যে জ্যাম লেগে থাকে। আবার সাতরাস্তা মোড় মহাখালীর দিকে থেকে আসা যানবাহন সেই ইউটার্ন পার হয়েই ডান লেনে চলে আসে। আর মহাখালী থেকে সাতরাস্তার দিকে যাওয়া যানবাহন ইউটার্ন নিয়েই বিজয় স্মরণী যাওয়ার জন্য বাম লেনে চলে আসতে চায়। সেখানে একটা ক্রসিংয়ের মতো হয়। গাড়ির গতি আরও কমে আসে।
 
প্রায় একই রকম অভিযোগ মহাখালীর গাড়িচালক আনোয়ার হোসেনেরও। তিনি বলেন, বনানীর দিক থেকে আসা গাড়িগুলোর কিছু সেতু ভবনের কাছের ইউটার্ন পার হয়ে ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ডান লেনে আসে। আবার মহাখালী থেকে বনানী মুখ করে আসা গাড়ি ইউটার্ন নিয়ে যারা মহাখালী যেতে চান, তারা বাম লেনে চলে আসতে চান। এ ক্রসিংয়ে গাড়ি চালানোও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গাড়ির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষের ভয় থাকে।
 
এছাড়া ইউটার্ন সংলগ্ন সড়ক সরু হওয়ায় বড় গাড়ির ইউটার্ন নিতে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন চালকেরা। মহাখালী বাস টার্মিনাল ব্যবহার করা এনা পরিবহনের একটি গাড়ির চালক জসীম উদ্দিন বলেন, নাবিস্কো মোড়ের কাছে ইউটার্ন থেকে ঘুরাইতে গেছিলাম। খুবই চিপা রাস্তা। অনেক কষ্টে ঘুরাইতে হয়।
 
এদিকে, এমন ইউটার্ন বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক শামসুল হক বাংলানিউজকে বলেন, একটি শহরকে ঠিক করতে হলে যে দাওয়াই দিতে হবে, সেটা দেওয়ার কিছু পূর্বশর্ত আছে। মানুষকে যেমন কোনো ওষুধ দেওয়ার আগে পূর্বশর্ত দেখতে হয়, শহরের বেলায়ও তাই। ইউটার্নের ক্ষেত্রে সেই পূর্বশর্তগুলো মানা হয়নি। ইউটার্ন হবে অপরিপক্ক এবং কম চাপ যুক্ত এলাকায়। কিন্তু ঢাকা একটি পরিণত এবং যানবাহনের উচ্চ চাপযুক্ত শহর। বিশেষ করে অফিস আওয়ারে গাড়ির খুব চাপ থাকে। এর মধ্যে আবার ‘বটলনেক’ (চলাচলের খুবই সরু জায়গা) আছে। তাহলে এটা সফল হবে কীভাবে? পথচারীদের পারাপারের জন্যও জায়গা রাখা হয়নি। ইউটার্ন দিয়ে যদি পুলিশ রাখতে হয়, তাহলে লাভ কী? অনেক আগে ঢাকা শহরে গোলচত্বর করা হয়েছিল একইভাবে। কিন্তু পরে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। এটাও তেমনি ঘটনা।
 
সড়ক পরিবহনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন ব্যক্তিদের দিয়ে ইউটার্ন করানোয় এর কার্যকারিতা ব্যাহত হবে বলেও মনে করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, যারা এ বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ নন, তাদের দিয়ে এটা করানো হয়েছে। এ প্রকল্পে সিটি কর্পোরেশন যাদের পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং আরেকজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাহলে হলোটা কী? এ পুরো প্রকল্পে বিজ্ঞানের কোনো ছোঁয়া নেই।
 
তবে এতকিছুর পরও ইউটার্নগুলো সফল হবে বলে মনে করেন প্রকল্প পরিচালক ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহাবুব আলম। বাংলানিউজকে মাহাবুব আলম বলেন, মানুষের চলাচলের অভ্যাসের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সবাই ডানে মোড় নিতে চায়। এর জন্য আমরা যেসব রাইট টার্ন বন্ধ করেছি, সেসব স্থানে স্বেচ্ছাসেবক রেখেছি। অভ্যাসের পরিবর্তন হয়ে এটায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে। এখনই রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ উত্তরা থেকে মহাখালীগামী সড়কে গাড়ি চলাচলের গতি ঠিক আছে। তবে বনানী চেয়ারম্যান বাড়িতে ‘বটলনেক’ আছে। নেভি সদর দপ্তরে ঢোকার রাইট টার্নটি এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তারা সীমিত আকারে এটি ব্যবহার করছেন। এটাও আমরা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে অনুরোধ করেছি। তারা করবেন এটি। সেখানে একটা স্পিডব্রেকারও আছে। এটার জন্য গাড়ির গতি শূন্যে নেমে আসে। এটাও আজ সরিয়ে ফেলা হবে।
 
ইউটার্নগুলোতে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে যানজট হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মাহাবুব আলম বলেন, যেখানে ইউটার্ন থাকবে, সেখানে সড়ক একটু সরু হবে, এটাই স্বাভাবিক। ইউটার্নের কারণে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আসবে, একেবারে নাই হয়ে যাবে না। সিটি কর্পোরেশন কখনও এটা বলেওনি। আগে হয়তো কোথাও ১০ মিনিট লাগত, এখন সেখানে সাত মিনিটে পার হতে পারলেই ইউটার্নের স্বার্থকতা।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৩২২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৪, ২০২১
এস এইচ এস/এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।