ঢাকা: করোনা মহামারি মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের খবরে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। করোনা আতঙ্কের বিষয়টি উপেক্ষা করেই নগরীর বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রির ধুম পড়েছে।
রোববার (০৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলীর বাস কাউন্টারগুলোতে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এখন বাড়ি ফেরা মানুষের চেয়ে টিকিট কিনতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। যারা বিকেলে কিংবা রাতে বাড়ি ফেরার টিকিট কিনতে এসেছেন। ফলে দিনের শেষভাগে টার্মিনালগুলোতে মানুষের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাস কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম সারির বাসগুলোর টিকিট সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে রাতের প্রায় সকল টিকিটই বিক্রি শেষের দিকে। এখন দ্বিতীয় সারির বাস কাউন্টারগুলোতেই মানুষ টিকিট কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন।
এদিকে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের বাধ্যবাধকতার জেরে প্রায় সব টিকিটের দাম দ্বিগুনের চেয়েও বেশি। কিছু বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক টিকিট বিক্রি করলেও বেশিরভাগ বাসে দ্বিগুন দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি সিটের টিকিট।
উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও দিনাজপুর রুটে চলাচলরত হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে কর্মরত সৈকত বাংলানিউজকে জানান, লকডাউনের খবরে গতকাল থেকেই আজকের টিকিটের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। আজ সকাল থেকে অনেকেই টিকিট কিনতে এসে কাঙ্ক্ষিত সময়ের বাস পাননি। রাত পর্যন্ত এই পরিবহনের বেশিরভাগ টিকিটই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাই রুটে চলাচলরত ন্যাশনাল ট্রাভেলসের টিকিটও প্রায় শেষ। কাউন্টারে কর্মরত জামাল আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, এখন যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী দিনের টিকিট দেওয়া যাচ্ছে। তবে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাসের টিকিট নেই বললেই চলে।
রাজশাহী যেতে দেশ ট্রাভেলসের টিকিট কিনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেতু। তিনি বলেন, গতবছর থেকে করোনার কারণে দীর্ঘদিন বাড়িতে ছিলাম। এবার প্রায় সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ও খোলার কথা শোনা যাচ্ছিলো। কিন্তু আবার লকডাউন দিচ্ছে তাই ঢাকায় থাকার মানে হয় না।
পরিবার পরিজনকে বাসে তুলে দিতে এসেছেন ব্যাংকে কর্মরত গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, সামনে রমজান-ঈদ আসছে। লকডাউন দেওয়ায় সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমার যেহেতু এখনো ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তাই আমি থেকে যাচ্ছি।
শ্যামলী, হানিফ, দেশ ট্রাভেলসের মতো পরিবহনের টিকেট না পেয়ে অনেকেরই ভরসা এখন অন্য পরিবহনের বাসে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুনের বেশি দামেই সেসব টিকেট কিনছেন তারা।
রংপুর-দিনাজপুর রুটে চলাচল করা খালেক পরিবহনের প্রতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিকিট বিক্রি করা মিজান বলেন, প্রতি দুই সিট ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন একই পরিবারের কেউ চাইলে তারা পাশাপাশি যাবেন, এখানে আমাদের করার কিছু নাই। রাতে প্রতি সিটে বসালেও মানুষ টিকিট পাবেনা।
তিনি বলেন, টিকিট নিলে নেন, একটু পরে এটাও পাবেন না। দুপুর ২টার পরে কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরলেও লাভ হবে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৫৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৪, ২০২১
পিএম/এনটি