ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কর্তৃক বেআইনিভাবে চাঁদার নির্দেশিকা তৈরি করে প্রতিদিন পরিবহন থেকে অবৈধভাবে ১১ কোটি টাকা চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ।
রোববার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পরিবহন শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সাধুবাদ না জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করে বিৃবতি দেয়। যা পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাস ঘাতকতা। শুধু তাই নয় তারা ইতোপূর্বে শ্রম আইন ও সড়ক আইনের বিরোধিতা করেছে। এমনকি সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা তৈরিতেও তারা বিরোধিতা করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন নামকাওয়াস্তে শ্রমিকদের ফেডারেশন হলেও তা মূলত মালিকদের সমিতি। ফেডারেশনের নেতারা মালিক সমিতির সঙ্গে আতাত করে শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির নির্দেশিকা তৈরি করে ১০ লাখ গাড়ি থেকে প্রতিদিন ১১০ টাকা করে ১১ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। এ ফেডারেশন থেকে ১০টি দাবি জানালে তার মধ্যে আটটিই থাকে মালিকদের।
ইনসুর আলী বলেন, গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ২৫ হাজারের ওপরে কাউন্সিলর থাকতেও তথাকথিত দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের নামে ২/৩শ’ লোক নিয়ে অবৈধ কাউন্সিল করেছে। এ কাউন্সিল শ্রম অধিদপ্তর কীভাবে সমর্থন করে। একটি কাউন্সিলে যেসব আইন-কানুন প্রতিপালন করতে হয় ফেডারেশনের বেলায় শ্রম অধিদপ্তর তা প্রতিপালন না করে স্ববিরোধী কাজ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিকদের সরকার ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন, মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, বোনাস ও ওভারটাইম দেওয়া, পরিবহন সেক্টরে শ্রমিক আইন পরিপন্থী অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বায়ন জানানো হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ খোকন, কার্যকরী সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম, প্রচার সম্পাদক মো. ইরফান করিম, দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বাবুল সিদ্দিক, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান রাজা প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫০ ঘণ্টা, ০৪, ২০২১
এমএইচ/আরবি