ঢাকা: দ্বিতীয় ধাপের করোনা সংক্রমণ বাড়ায় সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা করেছে সরকার। এ ঘোষণার পর রোববার (৪) সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে বাড়তে শুরু করেছে যাত্রীদের চাপ।
রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সরেজমিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে এ দৃশ্য নজরে পড়ে। স্টেশনের প্রবেশ মুখেই ছিলো টিকিট সংগ্রহকারীদের ভিড়। বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে তারা সংগ্রহ করছিলেন ট্রেনের টিকিট।
টিকিট কাটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নাসিম হায়দার জানান, তিনি যাবেন পাবনার বড়াল ব্রিজে। একটি কাজের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু লকডাউনের ঘোষণা আসায় সে কাজটি শেষ না করেই পাবনায় ফিরছেন। কারণ, সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে আমার কাজটাও হবে না। আবার বাড়িও ফিরতে পারবেন না।
টিকিটপ্রত্যাশী আরেক যাত্রী নাজমুল যাবেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। তিনি বলেন, ঢাকায় আমি চাকরি করি। সোমবার থেকে লকডাউন হলে আমার অফিস বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং আমার ঢাকায় থেকে কোনো লাভ নেই। সেজন্যই বাড়ি যাচ্ছি।
লাইনে থাকা আরেক যাত্রী আব্দুল লতিফ বলেন, ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করি। লকডাউন হলে কোনো কাজ থাকবে না। আর কাজ না থাকলে ঢাকায় না খেয়ে মরবো। এর চেয়ে ভালো ফিরে যাওয়া।
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বাংলানিউজকে বলেন, লকডাউনের ঘোষণায় স্টেশনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে, অর্ধেক আসনে টিকিট বিক্রি করছি। কোনোভাবেই আমরা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবো না।
তিনি বলেন, সোমবার থেকে সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য ৫ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রিত সব টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সোমবার থেকে সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এরপর থেকেই অগ্রিম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীরা টিকিট ফেরত দিতে ভিড় জমাচ্ছেন কমলাপুর রেলস্টেশনে।
টিকিট ফেরত নিতে আসা যাত্রী সমীর বড়ুয়া বলেন, আমি ঢাকাতেই থাকি। স্মার্টকার্ড নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট কেটেছিলাম। যেহেতু ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য টিকিট ফেরত দিতে এসেছি।
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এর আগে গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর ৩১ মে থেকে আট জোড়া ট্রেন চালু করে রেলওয়ে। পর্যায়ক্রমে আরো ২৮০টি ট্রেন চালু করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে চলাচল করতে হয় যাত্রীদের। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনের শতভাগ টিকিট বিক্রি শুরু হয়।
গত ৩০ মার্চ থেকে আবারও অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর ৩১ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১১ এপ্রিলের পর আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৪, ২০২১
ডিএন/ওএইচ/