গান্ধীনগর (গুজরাট), ভারত থেকে: চিলোদা মোড়ে বাস থেকে নেমে বোঝার উপায় ছিল না ভেতরে কি অপেক্ষা করছে। এই মোড় থেকে কয়েক কিলোমিটার ভেতরে গেলেই গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগর।
এখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে ভেতরে যেতেই চক্ষু স্থির! ঝকঝকে-চকচকে সড়ক। একেক দিকে তিন লেন করে ৬ লেনের বিশাল রাস্তা। বড় ফুটপাথ, তার পাশ দিয়ে সবুজ গাছে সারি। এতো বড় রাস্তা তবে যানবাহনের সংখ্যা খুবই কম। সড়কের কোথাও ময়লা আবর্জনা নেই। সড়ক বিভাজনে অসংখ্য গোলাপ গাছ। গোলাপ গোলাপে ছেয়ে গেছে সড়ক বিভাজন।

গোলাপ ছাড়াও রয়েছে চম্পা ফুল, কোথাও মিললো গুজরাটের জাতীয় ফুল মেরিগোল্ড বা গাদা। গোলাপি-হলুদ রংয়ের ফুলে সড়ক সেজেছে ভিন্ন সাজে। যতই এগিয়ে যাচ্ছি ততই যেনো মুগ্ধ হচ্ছি। এটি কি ভারতের কোনো শহর, নাকি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া কিংবা ইউরোপের কোনো শহর!
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে এখানে ১৪ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন। তার রাজনীতির হাতেখড়িও হয়েছে গুজরাটে।
সড়ক বিভাজনে ফুল গাছের সঙ্গে রাস্তার ফুটপাথ ধরে রয়েছে অসংখ্য গাছ। এসব গাছে গাছে ছেয়ে গেছে পুরো গান্ধীনগর। রাজধানী শহরের কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সড়ক জুড়ে রয়েছে ফুল গাছসহ নানা প্রজাতির গাছ। ফুলে ফুলে সুশোভিত ১৭৭ বর্গ কিলোমিটারের গুজরাটের রাজধানী।
শহরের বড় বড় ফুটপাথ ধরে নির্বিঘ্নে হাঁটাচলার সুযোগ রয়েছে। কিছুদূর পরপর রয়েছে বসার জায়গা। একটি শহর যে কতটা পরিকল্পিত হতে পারে তা গান্ধীনগর না দেখলে কেউ হয়তো বিশ্বাসই করবে না।
আমাদের গন্তব্য গান্ধীনগরের মূল শহর। শহরে এসে হোঁচট খাবার দশা। একি শহর নাকি অন্য কিছু! গুজরাটের মতো গতিশীল একটি প্রদেশের রাজধানী শহরে এতো কম মানুষ।
২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী গান্ধীনগরের জনসংখ্যা এক লাখ ৯৫ হাজার ৮৯১ জন। এরপর গত প্রায় ১৩ বছরে এই সংখ্যা কত হয়েছে সেই হিসেব কারো কাছ থেকে পেলাম না। কত হবে বড় জোর এক লাখ বেড়েছে।

মূল শহরটি ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা। এর একটু দূরে আবাসিক এলাকা। এটি ইনফোসিটি নামে পরিচিত। আবাসিক বাসিন্দাদের কেনাকাটা-খাওয়া দাওয়ার জন্য সিটিতে ঢুকতে রয়েছে প্রচুর রেস্টুরেন্ট, মার্কেট, হোটেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছু। সরকারি অফিস আদালতের জায়গাও নির্দিষ্ট করা। সরকারি অফিসগুলো শহরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। বিধান সভা, সচিবালয়, হাইকোর্টসহ সরকারের শীর্ষ অফিসগুলোর অবস্থান এক নম্বর সেক্টরে। এক নম্বর সেক্টরটি ১৯০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। পুরো শহরটিই আসলে সাজানো-গোছানো পরিপাটি।
শহরের প্রধান হাসপাতালটি অবস্থিত ১২ নম্বর সেক্টরে। যেখানে সহজেই যেকোনো সেক্টর যাওয়া সম্ভব। বার্ষিক মেলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এক্সিবিউশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ একরের একটি বিশাল মাঠ রয়েছে শহরের কেন্দ্রস্থলে।
সাবারমতি নদী তীরের এই শহরের জনসংখ্যার অর্ধেকই সরকারি-বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তার পরিবার পরিজন। বাকি অর্ধেকে সাধারণ মানুষের বসবাস।

অধিবাসীদের হিসেবেই এখানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৫ নম্বর সেক্টরে।
প্রস্তাবিত রেলস্টেশনের কাছেই রয়েছে আঞ্চলিক স্পোর্টস সেন্টার। শহরের বর্ধিতাংশে ৫০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম করা হচ্ছে।
গত বছর মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া ঘুরে গান্ধীনগরের সঙ্গে কোনো পার্থক্য পেলাম না। পুত্রজায়া যেমন সবকিছুই ছবির মতো সাজানো গোছানো। এই শহরটিও তেমনি। ভারতের পরিকল্পিত শহরের একটি গান্ধীনগর।
ভারতীয় নগরবিদ প্রকাশ ও মেওয়াদার পরিকল্পনাতেই গান্ধীনগরের গোড়াপত্তন। শহরটির সঙ্গে দেশের সব রাজ্যের রেল, সড়ক ও আকাশপথের যোগাযোগ রয়েছে।
রাজধানী শহর হলেও এখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে আকসারধাম মন্দির, গিফট ওয়ান টাওয়ার, ইন্দোরা পার্ক, মহাত্মা মন্দির, বোটানিক্যাল গার্ডেন।
** ঘুরে আসি আজমীর
** দিল্লি প্রেসক্লাবে সাবসিডি নেই!
** দিল্লির রাতে সস্তা দোকানিরা...
** মাকরানার হোয়াইট মার্বেলেই অনিন্দ্য তাজমহল
** দিল্লির আশীর্বাদ দিল্লি মেট্রো,ঢাকা মেট্রো কবে
** অ্যারাভেলি পর্বতে ঘেরা ভ্রাতৃত্ব
** ৩৬ ঘণ্টার বিচিত্র রূপ!
** ইন্টারনেটে বাংলাদেশ এগিয়ে
** সেই তো আমরাই!
** লাইফলাইন অব ইন্ডিয়া
** দিল্লি কত দূর?
** ভারতীয় ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশের মর্যাদা
** গ্রীনলাইনে ভুগতে ভুগতে কলকাতা
বাংলাদেশ সময়: ১১০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০১৪