ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

অন্যান্য

পুষ্টির চাহিদা পূরণে মিলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
পুষ্টির চাহিদা পূরণে মিলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

ঢাকা: ‘দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে খাদ্য উৎপাদনকারী মিলারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উৎপাদন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যের যথাযথ মান বজায় না রাখলে তা পুষ্টির চাহিদা পূরণের পরিবর্তে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে।

উৎপাদন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে ত্রুটি থাকলে খাদ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়। সেই খাদ্য পুষ্টির চাহিদা পূরণে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারে না। ’

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ৪ নম্বর (নবরাত্রি) হলে ‘মিলার্স ফর নিউট্রিশন (পুষ্টির জন্য মিলার) বাংলাদেশ লঞ্চ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।  

১০ম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের খাদ্য ও পুষ্টিখাতের সরকারি-বেসরকারি স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। আয়োজনে সহযোগিতা করে টেকনোসার্ভ।  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টেকনোসার্ভের সিনিয়র প্র্যাকটিস লিডার মনোজিৎ ইন্দ্রা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম।  

তিনি বলেন, সব খাবার কিন্তু ভালো খাবার নয়, ভালো মানের খাবারে অবশ্যই সার্টিফিকেশন থাকতে হবে। খাবারের মধ্যে নিউট্রিশন না থাকলে সেটা যেমন শরীর খারাপের কারণ হয়, তেমনি দেশের ইকনোমি গ্রোথেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু খাবারে মান নিয়ন্ত্রণ করা একা বিএসটিআইর পক্ষে সম্ভব না। তাই সবার সম্মিলিত চেষ্টায়, বিশেষ করে মিলারদের সহযোগিতার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূলপ্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের (বিএনসিসি) পরিচালক তাহেরুল ইসলাম খান।  

তিনি বলেন, শরীরের ডেভেলপমেন্টের জন্য খাবারের মধ্যে মাইক্রোনিউট্রেন প্রয়োজন। যেমন ভিটামিন ‘এ, আয়রন, জিংক, ভিটামিন বিসহ আরও অনেক কিছু। বাংলাদেশে মাইক্রোনিউট্রেন ঘাটতি রয়েছে। এই নিউট্রিশনের অভাবে শিশুসহ নারীরা, অ্যানিমিয়াসহ নানা ধরনের শারীরিক কন্ডিশনে ভোগে।

তাহেরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে লবণে আয়োডিনের ঘাটতি কমাতে একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করে। পাশাপাশি ফর্টিফাইড রাইসের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে ফর্টিফাইড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বিগত বছর ও সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বাজারেও এই ফর্টিফাইড চাল পাওয়া যাচ্ছে।


 অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে টেকনোসার্ভ ও কৌশলগত অংশীজনের অংশগ্রহণে পুষ্টির জন্য মিলারের লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে খাবারে নিউট্রিশনের প্রয়োজনীয়তা ও মিলার্স ফর নিউট্রিশনের বিষয়ে প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়।  

জাতীয় পুষ্টিসেবার (এনএনএস) সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. এসএম মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এসিআই ফুডস অ্যান্ড কমোডিটি ব্র্যান্ডসের চিফ বিজনেস অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ফর্টিফাইড রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জুলফিকার মাহমুদ, ইফাদ গ্রুপের এফএমসিডি ডিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহবুব বাসেত এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ।

খাদ্যের মান সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চ্যাম্পিয়নস অব ফুড ফর্টিফিকেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
ইএসএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।