হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গতকাল বাসায় ফিরেছেন তামিম ইকবাল। গত সোমবার বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ খেলতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদিও তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনার কথা ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাভারের ওই হাসপাতালেই তার এনজিওগ্রাম করা হয়। পরীক্ষায় তামিমের হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। সেখানেই তার হার্টে রিং পরানো হয়।
হার্টে রিং পরানোর পর তামিমের অবস্থা ধীরে ধীরে ভালোর দিকে যায়। পরদিন তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। আর ২৬ মার্চ তামিমকে ঢাকায় এনে ভর্তি করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে বাকি চিকিৎসা শেষে শুক্রবার বাসায় ফিরে গেছেন তিনি। বাসায় ফেরার পর এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি চিকিৎসক থেকে শুরু করে সমর্থক- সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুকে তামিম লিখেছেন, ‘আপনাদের সবার দোয়ায় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে এখন আমি বাসায়। উথালপাথাল এই চারটি দিনে নতুন জীবন যেমন পেয়েছি, তেমনি আমার চারপাশকে আবিষ্কার করেছি নতুন করে। সেই উপলব্ধির সবটুকুতে মিশে আছে কেবল ভালোলাগা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সবার ভালোবাসার ছোঁয়া ক্যারিয়ারজুড়ে নানা সময়ই পেয়েছি। তবে এবার তা অনভুব করতে পেরেছি আরও তীব্রভাবে। আমি সত্যিই আপ্লুত। ’
‘বিকেএসপিতে আমার অসুস্থতার শুরু থেকেই অনেককে পাশে পেয়েছি তাৎক্ষণিকভাবে। ম্যাচ রেফারি দেবু দা (দেবব্রত পাল), বিকেএসপির চিকিৎসকরা এবং আরও যারা তখন ছিলেন সেখানে, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার যে ভাই আমাকে দ্রুতগতিতে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমাদের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব কীভাবে, আমার আসলে জানা নেই। আমি পরে জেনেছি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন যে, ডালিম ভাই ওই সময় সঠিকভাবে সিপিআর না দিলে হয়তো আমাকে বাঁচানো যেত না। উপযুক্ত মানুষকে উপযুক্ত সময়ে আমার পাশে রেখে আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়েছেন। ’
‘সাভারের কেপিজে হাসপাতালের ডাক্তারদের নিয়ে তামিম বলেন, ‘কেপিজে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান মারুফ ও তার দক্ষ চিকিৎসক দল তাদের পেশাদারিত্ব আর আন্তরিকতার মিশেলে যেভাবে দ্রুততায় চিকিৎসা করেছেন, আমাদের দেশের চিকিৎসকদের মান ও কার্যকারিতাই ফুটে উঠেছে তাতে। আমি পরে শুনেছি যে, দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডা. মারুফ ও তার দল মিরাকল ঘটিয়েছেন। ’
গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা থেকে শুরু করে যারা যে কোনোভাবে যতটুকু সম্পৃক্ত ছিলেন, সবাইকে হৃদয়ে লালন করব আজীবন। এই হাসপাতালে যতটুকু সময় ছিলাম, তাদের হৃদ্যতার পরশ অনুভব করে যাব সবসময়। ঢাকা শহরের বাইরে ওই এলাকায় এতটা উঁচু মানের হাসপাতাল আছে, এতটা কুশলী চিকিৎসক দল ও স্টাফরা আছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এগিয়ে চলার একটি প্রমাণ এটি। দেশজুড়ে নানা জায়গায় এর কাছাকাছি মানের হাসপাতাল যদি আরও কিছু থাকে, আমার মতো আরও অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা পেতে পারে। '
তামিম আরও বলেন, ‘ধন্যবাদের তালিকা আসলে শেষ হওয়ার নয়। আরও অনেকেই নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, অনেকের কথা জানি, অনেকের কথা হয়তো জানি না। এতটুকু জানি, ধন্যবাদ পাওয়ার আশায় তারা কিছু করেননি। আমি তাদের ভালোবাসার ঋণে আবদ্ধ সারা জীবনের জন্য। পুরোপুরি সেরে ওঠার পথ এখনও দীর্ঘ। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রার্থনায় রাখবেন। সবার জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হোক। ভালোবাসা সবার জন্য। ’
বাংলাদেশ সময়: ১২৪২ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৫
এমএইচএম