পাহাড়তলীর পিচে পাহাড়সম ব্যর্থতা! নিউজিল্যান্ড সফরটা পাকিস্তানের জন্য ছিল যেন দুঃস্বপ্নের সমার্থক। শেষ ওয়ানডেতেও কোনো চমক দেখা গেল না।
ফলাফল? শেষ ম্যাচে ৪৩ রানের হার, সিরিজে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজও তো গেল ৪-১ তে!
এই সফরের মূল চিত্রনাট্য মোটামুটি এমনই—নিউজিল্যান্ডের সুইং আর পেসের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়—সব ম্যাচেই গল্পের মোড় একই।
বেন সিয়ার্স: পাকিস্তানের নতুন দুঃস্বপ্ন
দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর হয়তো কাকতালীয় ভেবে নিয়েছিল পাকিস্তান! কিন্তু, বেন সিয়ার্স সেটি ভুল প্রমাণ করে দিলেন। আবারও ৫ উইকেট (৫-৩৪), চারজন ফিরলেন শর্ট বলের ফাঁদে। পেস, বাউন্স আর আগ্রাসনে পাকিস্তান ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়লেন তিনি।
পাকিস্তানের ব্যাটিং: বরাবরের মতোই ঠাণ্ডা!
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ইনিংসে পাকিস্তানের মূল ব্যাটার বাবর আজম একটু চেষ্টা চালালেন, ৫৮ বলে ৫০ রানের ইনিংসও খেললেন। কিন্তু বাকি ব্যাটাররা? এক কথায়, হারিয়ে গেলেন কিউই বাতাসে। আব্দুল্লাহ শফিকের ৩৩ রানের ধীর ব্যাটিং যেন সময়ের অপচয়। এই রান করতেই তিনি খেলে ফেললেন ৫৬ বল, স্ট্রাইক রেট প্রায় ৫৯!
রিজওয়ান রান পেলেও (৩৭) অসময়ে উইকেট দিয়ে এলেন। ইমাম-উল-হক তো শুরুতেই বিদায়—চোট পেয়ে ১ রানেই মাঠ ছাড়লেন! শেষদিকে তায়্যিব তাহির ৩২ বলে ৩৭ রান ও নাসিম শাহ ১৩ বলে ১৭ রান করলেন, যাতে ভর করে কোনোমতে ২২১ রান তুলেছে পাকিস্তান।
কিউই ব্যাটিং: মারিউ-ব্রেসওয়েল শো
ম্যাচের শুরু দেরিতে হলেও, রান তোলায় দেরি হয়নি। রিস মারিউ—মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলছেন, অথচ কী নির্ভার ব্যাটিং! ৬১ বলে ৫৮, দেখে মনেই হয়নি যে নতুন! আর শেষ দিকে তো ব্রেসওয়েল এলেন ঝড় নিয়ে—৪০ বলে ৫৯ রান, তাতে ছক্কার সংখ্যা ৬টি! কী দুর্দান্ত ফিনিশ!
আকিফ-নাসিম কিছুটা আলো দেখালেও পারলেন না
আকিফ জাভেদ ৪ উইকেট পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু খরচ করেছেন ৬২ রান। নাসিম শাহ ছিলেন কিছুটা কার্যকর—২ উইকেট, ভালো লাইন-লেন্থ। কিন্তু জয়ের জন্য তা যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি।
হোয়াইটওয়াশ, হতাশা আর হতভম্ব পাকিস্তান
টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হার। ওয়ানডেতে অবস্থা আরও খারাপ। হোয়াইটওয়াশ অর্থাৎ ৩-০ ব্যবধানে হারের লজ্জায় ডুবতে হলো। পুরো সফরে মাত্র একটা ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে এটিই তাদের সবচেয়ে বাজে সফর।
বাংলাদেশ সময়: ১৪১১ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
এমএইচএম