আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গেরি। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান তার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিজ দেশে স্বাগত জানাচ্ছেন—যার বিরুদ্ধে গাজার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল), ওরবান সরকারের চিফ অফ স্টাফ গেরগেই গুলিয়াস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, হাঙ্গেরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর অধীনে সরকার বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রী ওরবান ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তিনি দাবি করেন, আইসিসি বর্তমানে ‘অত্যন্ত রাজনৈতিক’ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে।
হাঙ্গেরির পার্লামেন্টে ওরবানের ফিদেজ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, প্রত্যাহার বিল সহজেই অনুমোদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইসিসি হাঙ্গেরির এই ঘোষণার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এটিকে ন্যায়বিচারের জন্য চলমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি নেতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, যখন কোনো সদস্য রাষ্ট্র রোম স্ট্যাটিউট থেকে সরে যায়, তখন এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংকল্পকে ক্ষুণ্ন করে।
আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে, কোনো দেশ আইসিসি থেকে সরে গেলেও তা কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগে। প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নথি জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরে জমা দেওয়ার পরেই এটি কার্যকর হয়।
এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ—বুরুন্ডি ও ফিলিপাইন—আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নেতানিয়াহু ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে পৌঁছান। এটি ২০২৩ সালের পর তার প্রথম ইউরোপীয় সফর, যা তিনি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তোয়াক্কা না করেই করছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী ওরবানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাহসী ও নীতিগত অবস্থান।
হাঙ্গেরির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যেখানে কেউ এটিকে স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে, আবার কেউ একে ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে একটি ধাক্কা হিসেবে মনে করছে।
বাংলাদেশ সময় ১১৪৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ৪, ২০২৫
এমএম