ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনেও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঢাকাবাসী। এ দিন গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
বুধবার (০২ এপ্রিল) রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে এমন চিত্র।
গাবতলীতে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা ব্যাগ, লাগেজ নিয়ে গাবতলী বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহ করছেন। কেউবা অগ্রিম কেটে রাখা টিকিট নিয়ে এসেছেন। বিআরটিএ’র নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো।
মিরপুর থেকে গাবতলী বাস কাউন্টারে এসেছেন হানিফ মিয়া। তিনি বলেন, সবার ছুটির সময় আমি ডিউটি করেছি, আজ থেকে আমার ছুটি শুরু হয়েছে, তাই বাড়ি যাচ্ছি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে।
হানিফ মিয়া আরও বলেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করি। আজ অন্যরা যোগদান করায় আমার ছুটি শুরু। দুপুর ১টার গাড়িতে খুলনা যাব, টিকিট করে রেখেছিলাম, সকালেই কাউন্টারে চলে এসেছি। সড়কে যানজট নেই, আশা করি নির্ধারিত সময়ে বাড়ি পৌঁছে যাব।
গত তিনদিনই যাত্রীর চাপ ছিল, গতকাল অনেক বেশি ছিল, আজও আছে বলে জানিয়েছেন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রাশেদ। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ঈদের দিন, ঈদের পরদিন যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। আজও যাত্রী চাপ থাকলেও গত দুই দিনের চেয়ে কিছুটা কম।
এবারের ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। পরিবহনের সিডিউল বিপর্যয় ছিল না। যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়নি বলে জানালেন হানিফ এন্টার প্রাইজের কাউন্টার মাস্টার পাপ্পু। তিনি বলেন, ঈদে আগেও কোনো সিডিউল বিপর্যয় ছিল না। আর আজ ঈদের তৃতীয় দিন যাত্রীর চাপ খুব বেশি নেই। অন্যান্য দিনের মতোই যাত্রীরা আসছেন, নির্ধারিত দামে টিকিট নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আমরা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম নিচ্ছি।
ঈদকে কেন্দ্র করে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের জন্য ৪০ আসন বিশিষ্ট বাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। গাবতলী থেকে বরিশাল ৭১২ টাকা, গাবতলী থেকে পটুয়াখালী ৮১৯ টাকা, গাবতলী থেকে যশোর ৬৭৯ টাকা, গাবতলী থেকে বাগেরহাট ৮৯৩ টাকা, গাবতলী থেকে কালীগঞ্জ ৯৯৩ টাকা, গাবতলী থেকে সাতক্ষীরা ৯২০ টাকা, গাবতলী থেকে বেনাপোল ৭৩০ টাকা, গাবতলী থেকে কুষ্টিয়া ৬৭৬ টাকা ও গাবতলী থেকে মেহেরপুর ৭২৮ টাকা এবং গাবতলী থেকে খুলনা ৭৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু বাস নয়, ব্যাক্তিগত গাড়ি ও প্রচুর মোটরসাইকেল আরোহীকে সকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
এসএমএকে/এমজেএফ