ঢাকা: চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাফ ফুটবলে খেলতে গিয়ে প্রত্যাশার সিকিভাগও পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরে থাক গ্রুপ পর্বই উৎরাতে পারেনি মারুফুল হকের শিষ্যরা।
তবে সাফে না পারলেও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশ দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক খেলোয়াড় শফিকুল ইসলাম মানিক।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আমাদের দেশের মাটিতেই হচ্ছে, সেহেতু হোম গ্রাউন্ডের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগিয়েই আমাদের ছেলেরা খেলবে। তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ’

এসব প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে বাংলাদেশ দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ সত্যিকার অর্থেই কতটুকু আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে যারা আছে তারা খুব শক্তিশালী দল নয়। মালয়েশিয়া আসবে তাদের ক্লাব পর্যাযের দল নিয়ে আর অন্য দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও নেপাল আসবে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে। তাই তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ দলগুলোর বিপক্ষে জাতীয় দল খেললে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে খেলা উচিত বাংলাদেশের। ’
এমন স্বপ্ন তো সাফেও দেখেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেলেও পরের দুই ম্যাচে মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখিয়েই দেশ ছেড়েছিলেন মামুনুল ইসলামরা। কিন্তু, স্বপ্ন আর বাস্তবতার পার্থক্য তারা বুঝেছেন মাঠের লড়াইয়ে নেমেই। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে পরের ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বললেও পারেননি তারা।
তবে কেরালার মাটিতে না পারলেও নিজেদের মাটিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে আয়োজক দেশটি ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই খেলোয়াড় মানিকের।
‘আমাদের প্লেয়ার ও কোচরা যতটা পেশাদার সেই অনুযায়ী খেললে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা। দেশের মাটিতে খেলা। এখানে হোম কন্ডিশনের পাশাপাশি প্রচুর দর্শকদের সমর্থনও পাবে স্বাগতিকরা। তাই ঘুরে না দাঁড়ানোর কোনো কারণ নেই। তবে দর্শকদের উপস্থিতি চাপ হিসেবে নেওয়া যাবে না। ’
মানিক মনে করেন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের মতো আন্তর্জাতিক একটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি বিভাগকেই জ্বলে উঠতে হবে। রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে, মাঝমাঠ ও আক্রমণ ভাগ সব বিভাগকেই সমান দায়িত্ব নিতে হবে।
মাঝমাঠের প্রশংসা করে সাবেক এই খেলোয়াড় বলেন, ‘আমাদের মাঝমাঠ ভালো কিন্তু আক্রমণ ভাগ ততটা নয়। তারা মন্দের ভালো। ’
অন্যদিকে রক্ষণভাগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নাসির ইনজুরিতে থাকায় সাফে রক্ষণভাগকে অগোছালো মনে হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে নাসির ফিরলে আমাদের রক্ষণ ছন্দে ফিরতে পারবে। ওয়ালী ফয়সাল, নাসির, ছোট নাসির ও রায়হান বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে খেললে আমরা একটি সমৃদ্ধ রক্ষণভাগ আশা করতে পারি। ’

তিনি মনে করেন, একটি দেশের ফুটবলের সত্যিকারের উন্নয়ন ও উপকার হয় তখনই যখন নিজেদের দল ভালো খেলে। এখনকার দর্শকদের জাতীয়তাবোধ বেড়েছে। জাতীয় দলকে সমর্থন করতেই তারা মাঠে যান। জাতীয় দল ভালো করলে তারা গর্ববোধ করেন ও মাঠে যেতে অনুপ্রাণিত হন। দল জিতলে, গ্যালারি ভর্তি দর্শক থাকলে ফুটবলের উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই গতিশীল হয়।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের এবারের আসরে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল বা বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। আসছে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এসএ গেমস’র আসর বসবে ভারতের গৌহাটিতে, যেখানে বাংলাদেশের হয়ে তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন। এসএ গেমসের আগে অনুর্ধ্ব-২৩ দলের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে অংশগ্রহণকে ইতিবাচকই মনে করার কথা ছিল এদেশের ফুটবল বোদ্ধাদের।
কিন্তু শফিকুল ইসলাম মানিক তা করছেন না। কারণ, এখানে সত্যিকার অর্থে অনুর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে না। দলে থাকবে জাতীয় দলের স্কোয়াড থেকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাইড বেঞ্চে বসে থাকা জাতীয় দলের সিনিয়র প্লেয়াররা। তাই সাফ গেমসের আগে পরিপূর্ণ একটি দল হয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না অনুর্ধ্ব-২৩ ফুটবলাররা। পরিপূর্ণ একটি দল হিসেবে খেললে হয়তো এসএ গেমসের আগে একটি দারুণ প্রস্তুতি হয়ে যেত এসএ গেমসগামী লাল-সবুজ দলের।
বাংলাদেশ সময়: ০৮১৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৬
এমজেএফ/এমজেএফ/