ঢাকা, রবিবার, ২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৬

ফুটবল

বায়ার্নে শূন্যতা রেখে যাচ্ছেন মুলার

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৫০ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০২৫
বায়ার্নে শূন্যতা রেখে যাচ্ছেন মুলার টমাস মুলার/সংগৃহীত ছবি

সন্ধ্যার মিউনিখ বাতাসে যখন নরম আলো পড়ছে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার গ্যালারিতে, তখন মাঠের এক কোণে নিঃশব্দে পায়ের তাল মেলাচ্ছেন এক মানুষ—টমাস মুলার। গ্যালারির চিৎকার, গোলের আনন্দ, শিরোপার উল্লাস—সবকিছুর মধ্যমণি হয়ে থাকা সেই চিরচেনা হাসিমাখা মুখটি হয়তো আর দেখা যাবে না আগামী মৌসুমে।

২৫ বছরের সম্পর্ক। ৭৪৩টি ম্যাচ। ২৪৭ গোল। ৩৩টি ট্রফি। কিন্তু সংখ্যাগুলো কখনও বলতে পারবে না—মুলার আসলে কে ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের জন্য।

এক রূপকথার শুরু

১৯৯৯ সালে যখন এক ১০ বছরের কিশোর বাভারিয়ার ছোট শহর ওয়েইলহেইম থেকে মিউনিখে আসে, তখন কেউ জানত না—সে একদিন হয়ে উঠবে ক্লাবটির আত্মা। বায়ার্ন একাডেমির সেই তরুণই আজ বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার।

২০০৮ সালে সিনিয়র দলে অভিষেক। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। কেবলই এগিয়ে যাওয়া, কেবলই নতুন রেকর্ড।

'নো শো, জাস্ট ফুটবল'

মুলার কোনোদিন শিরোনামে থাকেননি চুলের স্টাইল বা দামি গাড়ির জন্য। তার খ্যাতি এসেছে মাঠের ভেতরে—গেম সেন্স, চিন্তাশক্তি, আর অদ্ভুত এক 'নোজ ফর গোল' দিয়ে। জার্মান কোচ জোয়াকিম লোর ভাষায়, “মুলার একধরনের খেলোয়াড়, যাকে বোঝানো যায় না, কেবল অনুভব করতে হয়। ” 

মুলার নিজেই তৈরি করতেন জায়গা, নিজেই তৈরি করতেন ছন্দ।

সাফল্যের সিংহাসনে বসা রাজা

২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১২টি বুন্দেসলিগা, ৫টি জার্মান কাপ, ২০১০ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট, ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়—এই সবকিছুর পেছনে ছিল মুলারের নাম, তার নিষ্ঠা, তার দলপ্রেম।

মুলারের বিদায়ী বাণী

“আমার চাওয়া একটাই, এই ক্লাবের সঙ্গে শেষ সময়গুলো কাটুক শিরোপা জয়ের আনন্দে। আমি কৃতজ্ঞ যে এই ক্লাবেই আমার পুরো ক্যারিয়ার কাটাতে পেরেছি,”—মুলারের এই কথায় ফুটে উঠেছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আবেগের গভীরতা।

বায়ার্নের ভাষায়: 'এমন মুলার আর আসবে না'

ক্লাব প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হেইনার বলেন, “মুলার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। এমন খেলোয়াড় কেবলই একবার আসে। ”

স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রয়েন্ড মন্তব্য করেন, “মাঠে যেমন, ড্রেসিংরুমেও তেমনি—মুলার একজন প্রকৃত নেতা। ”

শেষ অধ্যায়ের দিকে যাত্রা

মুলার বিদায় নিচ্ছেন মৌসুম শেষে। তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হতে পারে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে, জুনে যুক্তরাষ্ট্রে।
এছাড়া ক্লাব আয়োজন করবে একটি বিদায়ী টেস্টিমোনিয়াল ম্যাচ, যেখানে সমর্থকরা শেষবারের মতো ‘বায়ার্নের ছেলে’কে বিদায় জানাবে।

এ এক পরিণত রূপকথা

মুলারের বিদায় শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়—এটি এক দর্শনের বিদায়। এ বিদায় এক অধ্যায়ের, যেখানে সাফল্যের গল্পগুলো লেখা হয়েছিল আত্মত্যাগ, দলের প্রতি ভালোবাসা আর বিশ্বাস দিয়ে। যারা মুলারকে খেলতে দেখেছে, তারা জানে—ফুটবল মানে শুধু স্কোরবোর্ড নয়, ফুটবল মানে আবেগ, অন্তর, আত্মা। আর সে জায়গায় মুলার ছিলেন একজন পরিপূর্ণ শিল্পী।

শেষবারের মতো যখন তিনি অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার ঘাসে হাঁটবেন, গ্যালারিতে চোখ থাকবে লাখো সমর্থকের। কেবল একটাই আওয়াজ—“Danke (ধন্যবাদ), Thomas!”

বাংলাদেশ সময়ছ ১৬৫০ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।